মিন্টুর দিনকাল। হামীম রায়হান

0
159
পথশিশু ।। নিলুফার জাহান



মিন্টুর মন একটুও ভাল‌ো নেই। সারাদিন ঘরে বসে থাকলে কার ভাল‌ো লাগে? অনেক দিন থেকে স্কুল বন্ধ আ‌ছে। কবে খুলবে তাও জানা নেই। খেলার মাঠে যাওয়া নি‌ষেধ। মাঠে কেউ খেলতে আসে না। ধরতে গেলে মিন্টুর সময় কাটে কেবল টিভি দেখে। আবার কখনও ছাদে গিয়ে। টিভি দেখতেও ভয় লাগে! টিভিতে কেবল করোনার খবর। কত কত লোক মারা যাচ্ছে। এসব দেখতে দেখতে মিন্টুর মনটা আরও খারাপ হয়ে যায়। রাতে ঘুমাতে গেলে ভয় পায়। মনে হয় কে যেন তার গলা চেপে ধরছে। একা একা ঘুমাতেও পারে না। আগে তার খুব সাহস ছিল। রাতে ভূতের গল্প শুনেও সে একা একা ঘুমাতে পারত। আর এখন মোটেও পারে না। বেশ কয়েকবার ভয়ে কান্না করে‌ছে।

মিন্টুর এমন আচরণে বাসার সবাই বেশ
চিন্তিত। কেউ বুঝতে পারছে না সে কেন এমন কর‌ছে। সব তো ভালোভা‌বেই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ মিন্টুর কী হল‌ো! বাবা তার বন্ধু ডা. মহিউদ্দিনকে ফোনে ‌মিন্টুর বিষয়‌টি জানা‌লেন। ডাক্তার চাচা খুব ভাল‌ো মানুষ। মিন্টুর কোন‌ো অসুখ হলেই তি‌নি আসেন। এখন করোনা, তাই বাসায় এলেন না। চাচা সব কিছু শুনে তার সমস্যা বুঝ‌তে পার‌লেন। তি‌নি বললেন, মিন্টু যেন বেশি সময় ধ‌রে টিভি না দেখে। দেখলেও যেন করোনার সংবাদ না দেখে। তাকে বাসায় একটু সময় দিতে হবে। সু‌যোগ ক‌রে বাইরেও বেড়াতে নি‌য়ে যে‌তে হবে।

তাই বাবা নিয়ম করে মিন্টুকে প্র‌তি‌দিন বাইরে নিয়ে যান। মিন্টুর সাথে খেলেন। এভাবেই দেখতে দেখতে মিন্টুর মনটা ভা‌লো গেল। আগের মত‌ো রাতে আর ভয় পায় না। একা একাও ঘুমাতে পারে। মিন্টুর সেরে ওঠা দেখে বাড়ির সবার মু‌খে হা‌সি ফুটল।