বকের ছানা ।। খোশবুর আলী

0
162



অনেকদিন আগের কথা। আমার বয়স তখন আট বা নয় বছর। আমাদের গ্রামে বড় বড় তেঁতুল গাছ ছিল। গা‌ছে নানা প্রজাতির পা‌খি আর তা‌দের কি‌চির‌মি‌চির। দলবেঁধে আ‌সে সাদা বক, আর পানকৌড়ি। ডালে ডালে পা‌খির বাসা। পা‌খির ডাকে গ্রামটা সারা‌দিন মুখরিত থা‌কে। আমরা গাছের নিচে খেলতাম। যদিও সেখানে একটি উটকো গন্ধ লাগত। কিন্তু আমাদের নিয়মিত খেল‌তে খেল‌তে অনেটা অভ্যাস হয়ে যায়। সেই গাছের নিচে খেলারও কিছু কারণ ছিল। খেলার জন্য যথেষ্ট প‌রিমাণ জায়গা ও ছায়া ছিল। আর মাঝে মধ্যে বকের ছানা অথবা মাছ কুড়িয়ে পেতাম। সে সময় বড়রা ছোটদের বেশ শাসন করত। তাই বড়দের ভয়ে গাছে উঠে বকের বাচ্চা ধরার সাহস পেতাম না। একদিন আমরা গাছের নিচে খেলছি। এক সাহসি ছেলে হঠাৎ সবার অগোচরে গাছে ওঠে। আমরা তা টের পাইনি। গাছের পাখিরা এক সঙ্গে ডেকে উঠল। আমরা খেলা ছেড়ে গা‌ছের উপর দিকে তাকালাম। এমন সময় আমাদের মাঝখানে ধপ করে একটা শব্দ হ‌লো। একটি ছেলে মা‌টি‌তে পড়ে কাঁদছে। সবাই ছুটে গেলাম। তার একটি হাত ভেঙ্গে যায়। মাথা ও শরীরের কয়েকটি স্থা‌নে হালকা আঁচড়ের দাগ। সেই দাগগুলি দিয়ে রক্ত ঝরছে।

আমরা তাকে তুলে বসালাম। আমা‌দের মধ্যে কেউ পুকুর থেকে পানি আনলো। তার মাথায় পানি ঢাললাম। সে একটু সুস্থ্য হলো। তাঁর মা ইতোমধ্যে খবর পেয়ে ছুটে এ‌লো। তাকে নিয়ে গেল কবিরাজের বাড়ি। সেদিন আর আমাদের খেলাধূলা হলো না। সেই বিষয় নিয়েই গল্প গুজব শুরু হলো। কেউ বলছে- দ্যাখ, নামাবি না বকের ছা, কেমন মজা এবার বোঝ। কেউ বলছে, যেমন রাজা তেমন সাজা। কেউ বলছে, গাছে ভূত আছে। দিনদুপুরে একলা পেয়ে গাছ থেকে ফেলে দিয়েছে। কেউ বলছে, ভূতটূত কিছু না। বকের ছানা ধর‌তে গি‌য়ে বকের ঝাঁক এস‌ে চারদিক থেকে ঠোকর দেয়। নখ দিয়ে আঁচড়ে দেয়। তখন গাছের ডাল ছেড়ে বক তাড়াতে গেলে সে পড়ে যায়। আসলে কী ঘটেছিল সেই ছেলেটিই ভলো জানে। আমরা তার কা‌ছে প‌রে শু‌নেছিলাম। পাখির বাসা থেকে ছানা ধরার সময় মা পাখিটা জীবনকে তুচ্ছ করে অনেক সময় এভাবেই প্রতিশোধ নিয়ে থাকে।