দৃষ্টিনন্দন শালবনবিহার ।। শফিকুল আলম

0
623
দৃষ্টিনন্দন শালবনবিহার ।। শফিকুল আলম
দৃষ্টিনন্দন শালবনবিহার ।। শফিকুল আলম

রাত্রি হতেই উৎফুল্ল প্রাণ কখন ভোর হবে! ছুটে যাব ঐ দূর শালবনবিহারে। যেখানে হাজার বছর পূর্বের ইতিহাস-ঐতিহ্য বৌদ্ধদের স্মৃতিময় প্রার্থনাগৃহ রয়েছে। কত শাসক এল-গেল, কেউ আর ফিরে এলো না। যতদিন দেহের মাঝে
প্রাণবায়ুটা থাকে ততদিন হয়ত রাজ্যসভা, রাজা সবই ঠিকঠাক! এরপর সবই ফানুসের মত উড়ে যায় বায়ুর সঙ্গে দূর নীলিমায়। কিংবা অথৈজলে হারিয়ে যায় অস্তিত্ব। এটাই জীবন, এটাই গর্ব। আর এটাই স্থায়ী কুটির মানুষের। কিন্তু মানুষের গড়া কৃতিত্ব রয়ে যায় ধরার বুকে অত্যন্ত সীমিত ও ক্ষুদ্র, মানুষের আচার-আচরণ, বিধিবিধান, নিয়মননীতি, স্মৃতি ও সুন্দর ব্যবহার রয়ে যাবে চিরদিন ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে ও মানুষের অন্তরে।

সেদিন তারা এই বাংলার মৃত্তিকায় স্থাপত্য তৈরি করে। ভূমিতে তাদের রাজ্যসভার ভিত্তি স্থাপন করে। তাদের নিজস্ব আয়ত্বের মধ্যে বিচরণ করে যেমন খুশি তেমন। অথচ আজ নেই তাদের কোন অস্তিত্ব বা চিহ্ন। নেই তাদের কোন ঐতিহ্য। শুধুমাত্র রয়েছে তাদের গড়া কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক, দালানকোঠার ক্ষুদ্র নিদর্শন, তবুও তারা বেঁচে আ‌ছে ইতিহাসে। জীবনটা হচ্ছে চলন্ত গাড়ির মতো। যথাস্থানে গিয়ে থমকে যেতে বাধ্য। মানুষ তার আখের গুচাতে ব্যস্ত, অথচ সে জানে না তার গন্তব্য কোথায়! কিন্তু এটাই তো সত্য, মানুষ মরণশীল! তবে কেন এত বিলাসীতা? কেন মানুষের কল্যাণে নিজেকে না বিলিয়ে স্বার্থ, নিজের প্রশান্তির জন্য পথচলা? একদিন এই ভুবন দর্শন করছো তুমি। আবার এই ত্রিভুবনেই বিচরণ করবে, শাসন করবে হয়ত। ফের প্রত্যাবর্তন করবে, ঐ সাড়ে তিন হাত মাটির গুহায়। যেখানে একাকীত্বের সাথে কাটাতে হবে জনম জনম। যার প্রান্তি হবে যেহেতু মা‌টি। মাটি হতেই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আবার সেই মাটিই হবে শেষ গন্তব্য বা দাফন। যেখানে যেতেই হবে প্রত্যেক প্রাণীকে। কারণ মহান স্রষ্টা কর্তৃক এটাই নির্ধারিত।

শালবনবিহার আমার প্রাণের উচ্ছ্বাসতার অন্যতম স্থান। যার রূপে আমি মুগ্ধ। ধরা দেয় তার নিজস্ব সৌন্দর্য আমার হৃদয়ের গভী‌রে। আমি ক্ষুদার্থ বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়ি ঐতিহাসিক স্থান দেখার জন্য। যেখানে ফুলে-ফুলে পরিপাটি, রক্তজবা রঙের নানা ফুল, হাজার বছরের পূর্বের দালানকোঠা। দৃশ্যগুলো হরেক রকম নানা সাজে সজ্জ‌িত। যখন ‘সপ্তম-অষ্টম শতাব্দী’ ছিল তখন এখানেই বৌদ্ধদের প্রার্থনার ঘর ছিল। যা দেব বংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভব দেব এ বিহারটি নির্মাণ করেন। পুরাতন এই রূপময় ঐতিহাসিক নিদর্শনে আমার চক্ষু শীতল করে। বারবার উঁকিঝুঁকি মারে আমার মনের মন্দিরে। বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যময় স্থান কত পুরাতন, তবুও কী সুন্দর!
আমি যেন ফি‌রে যাই তৎকালীন শাসনামলে। ভাবনা আসে সেই সময়ের শাসনকাল ও
মানুষের আচার-আচরণের কথা। যেন আমিও তৎকালীন সময়ের একজন প্রজা। বৌদ্ধদের মন্দির যেখানে তাদের প্রার্থনার ঘর ছিল, আজ সেখানে মানুষের পরিদর্শনের স্থান। কত শত মানুষের বিচরণ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এভাবেই হয়ত রয়ে যাবে তাদের কৃতিত্ব। আর এভাবেই হবে আমাদের দেখা। তবুও শেষ হবে না পরিদর্শন, কারণ এটা যে ঐতিহাসিক নিদর্শন!