টুলু গোয়েন্দা ছেলে ধরার পাল্লায়- পর্ব-৪ ।। আসাদুল্লাহ মামুন

0
587
টুলু গোয়েন্দা ছেলে ধরার পাল্লায়- পর্ব-৪ ।। আসাদুল্লাহ মামুন
টুলু গোয়েন্দা ছেলে ধরার পাল্লায়- পর্ব-৪ ।। আসাদুল্লাহ মামুন

টুলু মামা, পটলা, রায়হান খালু, সুমিখালা সবাই টেনশনে। রেকর্ড করা কিডন্যাপদের কথাগুলো শোনা হলো। তারা খুব শান্ত মেজাজে বলছে টাকাটা নগদ নেওয়া হবে। আসতে হবে মাত্র একজনকে। ব্রিফকেসে টাকা নিয়ে আসতে হবে। স্থান সময়মতো জানিয়ে দেওয়া হবে। চারপাশে আমাদের লোক আছে। অর্থাৎ পুলিশ জানবে তো পল্টু খতম। পল্টুর মা এসব শ‌োনার পর হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। তারপর অজ্ঞান। পল্টুর বাবা সুমি খালাকে সোফায় দ্রুত শুইয়ে দিলেন। এরপর চোখে মুখে পানির ঝাপ্টা দিতে লাগলেন। পল্টুর মা তাকালেন। তারপর আবার কান্না। টুলু মামা বললেন- এতো উতলা হবার দরকার নেই আপা। আমি অনেকটা ক্লু পেয়ে গেছি, আর পল্টু তো এখনো সুস্থ আছে। অতএব, মনে বল রাখুন। দেখি কী করা যায়! এমন সময় আরো একটা কল এলো। রায়হান খালু বললেন- হ্যালো। টুলু মামা ইশারা করতেই রায়হান
খালু রেকর্ড বাটন টিপলেন। লাউড স্পিকারে একটা কড়কড়ে কণ্ঠে শোনা গেল- আপনারা
টাকা দেবেন, না পল্টুকে খতম করে দেব। রায়হান খালু বললেন- না না আপনারা
নিশ্চিত থাকেন। আপনারা টাকা পাবেন। পল্টুর সাথে কথা বলা যাবে? তারপর একটু
বিরতি। পল্টুর কণ্ঠ- আব্বু, আঙ্ক‌েল খুব ভালো, তুমি টাকা দিয়ে দাও। আমি
বাড়ি যাবো। এটুকু বলেই লাইন কেটে গেল। পল্টুর কণ্ঠ শুনে খালু খালা কিছুটা
আশ্বস্ত হলেন, আবার কেঁদেও ফেললেন। আমি আর টুলু মামা উঠতে যাবো এমন সময়
কলিংবেল বাজলো। জানালার পর্দা সরিয়ে টুলু মামা দেখলেন পল্টুদের ড্রাইভার।
দরজা খুলে রায়হান খালু ধমকে দিলেন- সেই কখন বাজারে গেছিস এত দেরিতে কেন?
ড্রাইভার রজব আলী আমতা আমতা করে বললো- পল্টু ভাইজান হারিয়ে যাওয়ায় মনটা
খারাপ।
-এ খবর কি গ‌োটা রাষ্ট্রে জা‌নি‌য়ে বেড়াচ্ছ? খালু বললেন,
– না, আমি কাউকে বলি নি। এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়েছিল, তা‌কে শুধু বলেছি।
ভালো করেছো, আমি না বলা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে যাবে না, রায়হান খালু ধমকে
দিলেন।
টুলু মামা বললেন- ড্রাইভার রজবকে আমার প্রয়োজন। সে এখন গাড়িতে আমাদের
নিয়ে যাবে। থানায় জানানোর ব্যাপারটা পুরোপুরি আমরা নিলাম। দুলাভাই, আপনি
শুধু ফোন সিরিভ করবেন আর সময় চাইবেন। বলবেন, সময় পার হওয়ার আগেই টাকা
পৌঁছে যাবে। রায়হান খালু করুণভাবে ঘাড় কাত করলেন। কথা শেষ করে রজব
ড্রাইভারকে নিয়ে আমি আর টুলু মামা বেরিয়ে পড়লাম। উদ্দেশ্য পল্টু‌কে উদ্ধার।
টুলু মামা ব্রিফকেসের দোকানে গাড়ি থামালেন। জিজ্ঞেস করলাম- মামা, আপনি কি
টাকা দিতে যাবেন, টাকা কোথায়? টুলু মামা রাগান্বিত হয়ে তাকালেন, আমি চুপ
ক‌রে থাকলাম। একটা ব্রিফকেস কেনা হলো। তারপর গেলাম মধুর ফটোকপির দোকানে। টুলু
মামা বললেন- এক হাজার আর পাঁচশ টাকার নোটের ফটোকপি করে ব্রিফ কেস ভরবে। মধু
বাবু জিভ কামড়ে দিল। টুলু মামা বললেন- আমি রিস্ক নিচ্ছি। জিজ্ঞেস করলাম-
মামা আমি কি প্রশ্ন করতে পারি? – প্রশ্ন করার আগে উত্তরটা শুনে রাখ। তুই আর
আমি এই ব্রিফকেস নিয়ে টাকা দিতে যাবো।
– টাকা?
– ওই যে ফটোকপির টাকা।
এ কথা শুনে বুক ধড়ফড় করে উঠলো। বললাম- মামা, তার মানে হলো ধরা পড়ে যাওয়া।
– পড়লে পড়বো, পল্টুকে মেরে ফেলা যাবে না।
– না মানে আমাকেও যেতে হবে?
– হ্যাঁ যাবি।
– ওরা বলেছে শুধু একজন যেতে।
– ওদের সব কথায় শুনতে হবে? প্রয়োজনে এক সাথে ধরা দেব। আমরাও ধরা দেব, না হয়
ওরা ধরা পড়বে।
– আমার বুকের ভেতর ধড়ফড় শুরু হলো। ভাবতেই পারছি না টুলু মামা এমন সিরিয়াস
হলেন কিভাবে। বললাম- এটা কি আমাদের বোকামি হবে না?
– না, বোকামি হবে না। একটা রিস্ক নিতেই হবে। এমন সময় ফোন এলো ইন্সপেক্টর আকমলের।
মামা ফোন ধরে কথা বললেন, বোঝা গেল ইন্সপেক্টর মাহবুবের নেতৃত্বে সাদা
পোশাকে ডিবি পুলিশ আর ইন্সপেক্টর আকমল মিলে শহরের সম্ভাব্য স্থানে অভিযান
অব্যাহত রেখেছেন। টুলু মামা জানালেন- আগামীকাল আমরা ওদের কথামতো স্থানে
টাকা দিতে যাবো। আপনারা রেডি থাকবেন। বিষয়টা রিস্কি, পল্টুকে বাঁচানো
সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। এতদূর কথা হবার পর বুঝলাম টুলু মামার সাহস বেড়েছে।
বাসায় ফিরে রজবকে ছেড়ে দেওয়া হলো।

মামা এবার গা এলিয়ে দিয়ে ফোন অন করলেন। প্রথমে চটপটিওয়ালা আলতাফ মিয়া, লাউড স্পীকারে শুনলাম। আলতাফ আমতা আমতা করে বলছে- আমি তো কিছু জানি না। পল্টু রোজ আমার দোকানের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকে। ও চলে যাওয়ার পর প্রতিদিনের মতো আমিও বাড়ি চলে এসেছি। পরে ঘটনা শুনলাম।
টুলু মামা বললেন- তুমি কাল স্কুল‌ের গেইটে চলে এসো। তোমার সাথে কথা আছে। আলতাফ
মিয়া জি স্যার, জি স্যার বলে মোবাইল রেখে দিল। এবার রিংটন বেজে উঠলো টুলু মামার। ইন্সপেক্টর আকমল জানালেন- কিডন্যাপরা
কিছু ভুয়া আইডি থেকে সিমকার্ড কিনেছে। একটা নাম্বার চট্টগ্রামের একজন বৃদ্ধের
নামে কেনা, অন্যটা পটুয়াখালীর একজন মহিলার আইডি নাম্বার। কিন্তু ওরা কথা বলছে
শহরের আশপাশের নেটওয়ার্ক থেকে। ট্র্যাক করার চেষ্টা চলছে। টুলু মামা
দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, অপরাধীরা সাধারণত এমনই সব সিম ব্যবহার করে থাকে। চল, রাতে
সব কাজ গুছিয়ে ফেলি, কাল আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা। মামা বললেন- মনের সাহসই
হলো আসল সাহস। বললাম- স্পটে গেলেই বোঝা যাবে, সাহস কাকে বলে। মামা বললেন-
শোন তরু, আর যাই হোক, কিডন্যাপরা খুব একটা ভয়ঙ্কর না। ওদের টিমটা বেশ
দুর্বল, হতে পারে এ লাইনে কেবল কাজ শুরু করেছে। কিন্তু সিরিয়াস, সাবধান
দুর্বল ভাবা ঠিক হবে না। এ পর্যন্ত বলেই টুলু মামা চোখ বুঝলেন। বুঝলাম আমার আজ আর ঘুম হবে না।

…..চলবে