টুলু গোয়েন্দা ছেলে ধরার পাল্লায়- ৩য় পর্ব ।। আসাদুল্লাহ মামুন

0
587
টুলু গোয়েন্দা ছেলে ধরার পাল্লায়- ৩য় পর্ব ।। আসাদুল্লাহ মামুন
টুলু গোয়েন্দা ছেলে ধরার পাল্লায়- ৩য় পর্ব ।। আসাদুল্লাহ মামুন

– হ্যাঁ, সাধারণত টাকা দাবি করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আর আজকাল তো-
– আজকাল কী?
– মেরেও ফেলছে।
– সর্বনাশ!
– সর্বনাশ বলতে?
– পুলিশকে জানানো দরকার।
– সেটাও ওরা বলে দেয় পুলিশকে জানালে আরো বিপদ।
– আমরা এখন কী করতে পারি? রায়হান খালু তো থানায় ডায়েরি করেছে। সেটা এখন
চেপে থাকতে হবে। আমরা পুলিশকে জানাবো খুব সতর্কতার সাথে। এখন থেকে তুই
খেয়াল রাখবি আমাদের কেউ ফলো করছে কিনা!
– ওকে মামা।
– এখন চলো, আলতাফকে খুঁজেতে হবে।
– আলতাফকে খুঁজতে গিয়ে ওদিকে আবার পল্টুকে ভ্যানিস না করে।
– সব রকম প্রিপারেশন নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একটা মেয়ে রেললাইনের ধারে
দাঁড়িয়ে পান খাচ্ছিল, বিচ্ছিরি তার দাঁত। আমরা তাকেই জিজ্ঞেস করলাম। এই যে
আপা, রাহেলার মাকে চেনেন? সে চোখ বড় বড় করে বললো, ক্যান কী চান?
– আলতাফের ফোন নাম্বার।
– দেওন যাবে না। আপনারা কারা, চিনি না শুনি না কেন দিমু?
মামা পরিচয় দিলেন। মেয়েটা হালকা হয়ে সালাম দিল। তারপর মোবাইল বের করে
আলতাফের নাম্বারটা দিলেন। মামা বললেন, দ্রুত থানায় যেতে হবে। আর পটলার
কাছ থেকে মানে, যেটা থেকে ফোন এসেছিল সেই নাম্বারটা সংগ্রহ করা দরকার।
আমরা আলতাফের নাম্বারটা নিয়ে দ্রুত একটা অটোতে চড়ে বসলাম। অটো থেকেই পটলাকে
কল দিলাম।
– পটলাকে বললাম, যে নাম্বার থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে সেই নাম্বারটা ম্যাসেজ কর। আর
শোন, থানার দিকে যেন কেউ না আসে তুইও আসবি না। পটলা হু-হু করে ফোন রেখে
দিল।
আমরা থানার গেট থেকে একটু সামনে গিয়ে নামলাম। ভাড়া দিচ্ছি এমন সময় মামা
বললেন, রাস্তার ওপাশে একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে খেয়াল করেছিস? দৃষ্টি কিন্তু
থানার গেইট।
সত্যি দেখলাম একটা লোক রোগা টিঙ টিঙে, মাথায় ক্যাপ কাঁচাপাকা দাড়ি। একা
দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। তার পাশে পান-সিগারেটের দোকান।
টুলু মামা বললেন, আমরা এখন থানায় ঢুকবো না। চল, লোকটা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে
সেখানে গিয়ে পান খাবো। ভাবখানা এমন যে আমরা পান খেতে এসেছি।
– তবে তাই হোক। মামা আর আমি গল্প করতে করতে লোকটার সামনে দিয়ে দোকানে
গেলাম। মামা দোকানিকে একটা পান দিতে বললেন, দেখলাম লোকটা থানার গেটের দিকে
লক্ষ্য রাখছে। আমাদের ফলো করছে না।
– তার মানে হলো, লোকটা আমাদের এখনও সন্দেহ করেনি। যাক বাঁচা গেল। মামা পান
খান না, কিন্তু পান মুখে দিয়ে পানের বোটায় এক লাবড়া চুন নিয়ে এমন ভাব দেখালেন যেন তিনি পান খাওয়ায় অভ্যস্ত। বিপত্তি ঘটলো যখন তিনি পান খেতে খেতে কাশতে লাগলেন। পানের মধ্যে জর্দা আর চুন দেওয়াই মারাত্মক বিষম খেলেন। মামা থু-থু করে মুখ থেকে পান ফেলে দিলেন। চোখ নাক দিয়ে পানি বেরিয়ে একাকার। পাশে দুজন লোক এসে টুলু মামার মাথায় পানি দিতে লাগলেন। হায় আল্লাহ! এক কাজ করতে গিয়ে আরেক বিপদ। মামাকে বসানো হলো বেঞ্চে। ধীরে ধীরে তার সমস্যা কাটতে লাগলো। এদিকে আমি রোগা লোকটাকেও লক্ষ করছিলাম। টুলু মামার এমন অবস্থা দেখে লোকটা একবার গভীরভাবে তাকিয়ে দেখেছিল। মামাকে একটা চকলেট দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন সেটা চুষে খাচ্ছেন। মামা ইঙ্গিত করতেই দেখলাম, থানার গেইট থেকে দুজন পুলিশ বেরিয়ে লোকটার দিকে
যাচ্ছে। লোকটা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে পাশের গলিতে দ্রুত ঢুকে হারিয়ে গেল।
আমি লক্ষ্য করলাম লোকটা গলির মধ্যে ঢোকা মাত্রই দৌড় দিয়েছে। সম্ভবত থানার
সিসি ক্যামেরায় লোকটাকে লক্ষ্য করেই পুলিশ এসেছিল। বুঝলাম এই লোকটাও পল্টুর
কিডন্যাপের সাথে জড়িত। থানায় কেউ আসে কি-না লক্ষ্য রাখছিল। আমরা এবার খুব
সহজে থানায় প্রবেশ করলাম। পটলার পাঠানো নাম্বারটা থানায় জমা দিলাম।
কিডন্যাপার যে হুমকি দিয়েছে সে সম্পর্কে টুলু মামা সব বুঝিয়ে বললেন।
ইন্সপেক্টর আকমল কিছুটা চিন্তিত হলেন, সময় দিয়েছেন কিডন্যাপাররা মাত্র ৭২ ঘণ্টা। এর মধ্যে টাকা না পেলে পল্টুর জীবন খতম।
আমরাও বিষয়টা নিয়ে কাজ করছি সে কথাও জানিয়ে দেওয়া হলো। আকমল দারোগা বললেন, এখন আপনারা জানবেন, কোথায় কখন কিভাবে তারা টাকা নেবে। জেনে দ্রুত
আমাদের জানাবেন। আমরা ওসি সাহেবের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনে ডিবির সাহায্য
নেব। কেসটা আপাতত আমি নিচ্ছি, যা করার দ্রুত করতে হবে। ইন্সপেক্টর আকমল
বললেন, আপনারা সতর্কতার সাথে কাজ করবেন। কেননা পল্টু এখন ডেঞ্জার পয়েন্টে
আছে। এ পর্যন্ত কথা শেষ করে আমরা থানার পেছন দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলাম।

……. চলবে