ছেলে ধরার পাল্লায়-২য় পর্ব ।। আসাদুল্লাহ মামুন

0
626
ছেলে ধরার পাল্লায়-২য় পর্ব ।। আসাদুল্লাহ মামুন

টুলু মামা এবার মাথা খাটি‌য়ে বললেন, পটলা চিন্তা করিস না। কেসটা আমিই নিচ্ছি।
পল্টু উদ্ধার হয়ে যাবে।
– মামা, আমি এখন কী করবো?
– কিছু করতে হবে না, শুধু লক্ষ্য রাখ তোর বাবা মা’র মোবাইলে কোন কল আসছে
কি-না! যদি কল আসে সেটা যেন রেকর্ড করে রাখে।
– ওকে, তাই হবে। আমি বললাম, পটলা তুই এখন বাসায় যা। টুলু মামা বললেন, আমি
তোদের বাসায় আসছি।
পটলা দ্রুত চলে গেল। টুলু মামার দিকে তাকিয়ে দেখি মামার কপালে বিন্দু
বিন্দু ঘাম। বললাম, মামা ঘামতে হবে না। এই কেসটার সমাধানের উপর নির্ভর করছে
তোমার ক্যারিয়ার। পল্টুকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতেই হবে।
টুলু মামা বললেন, ক্যারিয়ার কিরে! পল্টু আমাদের ভাগ্নে, এটা আমাদের দায়িত্ব।
তরু, তুই তাড়াতা‌ড়ি তৈ‌রি হ‌য়ে নে। কোন রকম টেনশন করবি না। আমি বললাম, টেনশন
যদি করি সেটা তোমার নার্ভাসনেস নিয়ে, তুমি শক্ত থাকো।
টুলু মামা কড়া চোখে তাকালেন, মনে হলো জাত গোয়েন্দা। আমরা দেরি না করে দ্রুত
রেডি হয়ে গেলাম।
ঘড়িতে ঘণ্টা বাজলো ডং ডং, দুপুর দুটো। বেরিয়ে পড়লাম, টুলু গোয়েন্দা তরু এ্যাসিস্ট্যান্ট।

দুই.

পল্টু আমাদের ভাগ্নে। টুলুমামা বললেন, তাকে খুঁজে বের করা আমাদের দায়িত্ব। পল্টুর মা-বাবা একে একে আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় ফোন করতে লাগলেন।
টুলু মামা পটলার বাবাকে জিজ্ঞেস করলো, পল্টু কোন বিষয় নিয়ে রাগ করেছিল
কি-না! কিংবা তাকে কোন ধমক দেওয়া হয়েছে কি-না!
পটলার বাবা রায়হান খালু বললেন, মাঝে মাঝে তো পড়াশুনার জন্য ধমক দিতেই হয়।
সেজন্য রাগ করে চলে যাবে? এমন তো হতে পারে না। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে
যথাসময়ে পটলা হাজির হলো। সবাই মিলে ফুটেজটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম। তাতে
দেখা যায় পল্টুর সাথে লোকটা দু’একটা কথা বলেছে। লোকটা চলে যাবার প্রায়
ত্রিশ সেকেন্ড পর পল্টু তাকে ফলো করে ক্যামেরা আউট হয়েছে। তার ত্রিশ সেকেন্ড পর চটপটিওয়ালাও চলে গেছে। টুলু মামা ফুটেজটা ট্রান্সফার করে নিলেন। তারপর বললেন, কোন ফোন এলে রেকর্ড করে আমাকে খবর দেবেন। পুলিশ তার কাজ করবে। আমরাও দেখছি কী করা যায়।
আমি আর টুলু মামা বেরিয়ে গেলাম। টুলু মামা বললেন, চল, এখন আমাদের প্রথম কাজ
চটপটিওয়ালাকে খুঁজে বের করা। কেননা সেও জড়িত থাকতে পারে। সন্দেহের বাইরে কেউ
নয়।
– ওকে, তবে তাই হোক।
আমরা লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনে এসে নামলাম। স্কুল ছুটি হয়ে যাবার কারণে
গেট বন্ধ। শুন-সান। স্কুলের গেটের উপর দিয়ে কে যেন উঁকি দিল। টুলু মামা বললেন, দেখেছিস?
– কী দেখবো?
স্কুলে এখনও কেউ আছে। আমরা গেটে নক করলাম। কেউ কোন সাড়া দিল না। আরো দু’বার
নক করার পর গেট কিপার দরজা খুলে দিল।
টুলু মামা জিজ্ঞেস করলো, তুমি কে?
গেট কিপার হক চকিয়ে গেল। বলল, আমি দাড়োয়ান।
– উকি মারছিলে কেন?
– না মানে, পুলিশ এসেছিল একটু আগে। আপনারা কে?
– উনি টুলু চৌধুরী গোয়েন্দা।
– জি, ভাইজান। আমি চিনতে পারিনি।
– ঠিক আছে। পল্টুকে ধরে নিয়ে যাবার সময় তুমি কোথায় ছিলে?
– ভাইজান, আমি গেটেই ছিলাম। কিন্তু আমি দেখিনি।
– তোমার নাম?
– কুদরত আলী।
মামা বললেন, তরু নামটা…
– জি মামা, নোট বুকে লিখে নিলাম।
– স্কুলে কেউ আছে?
– না, পুলিশ চলে যাবার পর হেড স্যারও চলে গেলেন।
-ঠিক আছে। এবার বলো, ওই যে ওখানে চটপটিওয়ালাকে তুমি চেন?
– জি, সামনের রেল লাইনের বস্তিতে থাকে। নাম আলতাফ মিয়া। সবাই চেনে।
– শোনো, গেটের বাইরে সন্দেহজনক কারো চলাফেরা দেখলে জানাবে। আমি আবার আসবো,
বুঝলে।
– জি জনাব, গেট কিপার মাথা ঝোঁকালো।
আমি আর টুলু মামা অনেক খোঁজাখুজির পর রেল লাইনের ধারে আলতাফ মিয়ার ঝুপড়ি
ঘর আবিষ্কার করলাম। বউ আর দুটো বাচ্চা। বড় ছেলের বয়স বারো হবে। কিন্তু
আলতাফকে পাওয়া গেল না। বউ জানালো, চটপটি বিক্রি শেষে সামনের বাজারে গেছে।
জিজ্ঞেস করলাম, মামা আমরা কি তার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবো?
– তার চেয়ে ভালো হয় তার মোবাইল নাম্বারটা ম্যানেজ করা।
– এখন মিডিয়ার যুগ। পালাবে কোথায়?
আমার কথা শুনে টুলু মামা কড়া চোখে তাকালেন, বললেন, নাম্বারটা দ্রুত টুকে রাখ।
আমি তার বউয়ের কাছ থেকে নাম্বার চাইলাম। কিন্তু সে বললো, তার ন‌াম্বার ম‌নে নেই।
খটকা লাগলো। জিজ্ঞেস করলাম, দরকার হলে কিভাবে যোগাযোগ করো?
– রাহেলার মায়ের মোবাইল আছে। ওই মোবাইলে নাম্বারটা আছে। সেখানে গি‌য়ে বললে সে ফোন ধরিয়ে দেয়।
– আচ্ছা, ঠিক আছে। তাহলে চলো রাহেলার মা’র কাছে। আলতাফের বউ বললো, ভাইজান
চুলায় খাবার চড়াইছি। আমি এখন যাইতে পারুম না। বড় ছেলেটাও নাই। তয় আপনারা
রাহেলার মা’র ঘরে যান সামনের পাঁচ ছটা ঘর পরে।
টুলু মামা বললো, চল, রাহেলার মাকে খুঁজতে হবে।
আমরা রেললাইন ধরে হাঁটছি এমন সময় মামার নাম্বারে কল এলো, পটলার ফোন।
মামা ফোন ধরে বললেন, কল করেছিল তাই! ঠিক আছে। থানায় জানানোর দরকার নেই।
টাকা দিতে রাজি হয়ে যা, আমি আসছি। টুলু মামা ফোন রেখে বললেন, তরু, ঘটনা
খারাপ। কিডন্যাপাররা ফোনে দশ লাখ টাকা চেয়েছে। নইলে…
– নইলে কী মামা?
– না হলে পল্টুকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে।
– বলেন কি?
……. চলবে